মনে করুণ সুর

মাঝে মাঝে খুব একা থাকতে ইচ্ছা করে, মন চায় কিছু সময় শুধু আমার জন্যই থাকুক। একা একা বসে থাকি, চারদিকে থাকুক শুনশান নীরবতা। আমি চুপচাপ বসে থাকব, আনমনে এটা ওটা ভাবব। আমার অতীত, আমার প্রত্যাশা, আমার প্রাপ্তি, আমার দুঃখ, মনের করুন সুর……

আমার অসহায়ত্ব, আমার বাধ্যবাধকতা, বিদ্রোহ করতে চেয়েও বাধ্য হয়ে মেনে নেওয়া মন, মনের সংখ্য ক্ষোভ কিংবা অপ্রাপ্তি আর বঞ্চনা নিয়ে ভাবব… এটা কি তাহলে দুঃখবিলাস হবে? হবে হয়তো। কোন কিছু  বেশি পরিমানে থাকা আর অকারণে তা ব্যয় করার নামই তো বিলাসিতা। দায়িত্ববোধে বাধ্য হওয়া, পালাতে চেয়েও পালাতে না পারা কিংবা বঞ্চনার অনুভূতি নিয়ে নীরবে ভেবে সময় নষ্ট করা হয়তো দুঃখবিলাসই!

পরাধীন মানুষ স্বাধীনতার জন্য ছটফট করে। কেউ টাকার অভাবে পরাধীন, কেউ ক্ষমতার অভাবে, কেউবা সময়ের অভাবে! হ্যা সময়ের অভাবেও মানুষ পরাধীন হয়, সময় বেচে দিয়ে কৃতদাসও হয়।

মাঝে মাঝে  প্রশ্ন জাগে আমি কি স্বাধীন মানুষ? আমিও কি সময় বেচে দেওয়া কৃতদাস নই। সারাদিন যে কাজগুলো করি অভাব না থাকলে কিংবা স্বাধীনতা থাকলে তার কত পার্সেন্ট স্বেচ্ছায় করতাম? ভাবতে যেয়ে অবাক হই। উত্তর আসে ২-৫% এর কাছাকাছি। তার মানে আমি আসলে স্বাধীন নই, পরাধীনই সময় বেচে দেওয়া এক ক্রীতদাসই…

পরাধীন মানুষের  কি কল্পনায় নিজের মত করে থাকার ক্ষমতা থাকে? ভেবে মনে হয়, কল্পনাশক্তিও মনে হয় পরাধীন হয়ে গেছে, নিজের মত করে ভাবার শক্তিও নাই। পরাধীন মন তাই মুক্তি দূরে থাক স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায়।

এসব নিয়ে ভাবার যে সময় পেয়েছি এতেই তো অনেক খুশি খুশি লাগে। শেষ কবে এভাবে ভাবার মত সময়টুকুও পেয়েছি সেটা খুজতেই কয়েক ডজন ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো লাগে।

মাঝে মাঝে মনে হয় এই পরাধীনতা আর ব্যস্ততার মাঝেই সুখ… দুঃখগুলোকে এক সুতোয় গাঁথা যায়। সেই সুতোয় সুর তোলা যায়, আমার অতীত, আমার কল্পনা, আমার একাকীত্ব, আমার অসহায়ত্ব, আমার পরাধীনতা, আমার মনের করুণ সুর…

বাকবাকুম – ২

গত এক বছরে সবকিছু কেমন জানি উলটে পালটে গেছে। প্রায় গত ছয় মাস থেকে বেকার বসে আছি। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও চাকুরি জুটছেনা কপালে। আমি ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি। আল্লাহ তাআলা যেটা চান সেটাই তো আমার জন্য ভাল। তিনি না চাইলে তো আমার আর কিছু করার নেই। আল্লাহও প্ল্যান করেন, আমরাও প্ল্যান করি। নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্ল্যান আমাদের প্ল্যানের চেয়ে অনেক ভাল। আইইউটিতে পড়ার সময় কত প্ল্যান করে স্বপ্ন দেখেছিলাম। সত্যি কয়টা হয়েছে? কপালের ওপর আসলে কিছু করার নাই।

সবকিছুর স্রোতে ইদানিং কেমন জানি আউলা হয়ে গেছি। নিজের কোন হিসাব নিকাশ নাই। আগে ডায়েরী বা ব্লগ লেখার প্রতি আকর্ষন ছিল। ইদানিং ডায়েরী বা ব্লগ লিখতে কেমন জানি আনইজি লাগে। কিন্তু কিছু স্মৃতি টুকে রাখতে পারলে সম্ভবত ভবিষ্যতে আমার সুবিধা হতে পারে। সেজন্যই প্রাইভেট একটা ব্লগটা ওপেন করলাম। মনের কথাগুলো আজ থেকে এখানে টুকে রাখার চেষ্টা করব। ব্লগটা যেহেতু প্রাইভেট সেহেতু অস্বস্তি লাগবে না বলেই মনে হয়। বাকিটুকু পড়ুন

✶ রোজনামচা – ২৬.১০.২০১১ ✶

আগামীকাল আমাদের কনভোকেশান। আজ অনেক ব্যস্ত একটা দিন গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৌড় অডিটোরিয়ামে। কনভোকেশানের রিহার্সেল হলো। ইয়া বিশাল একটা গাউন, হ্যাট আরেকটা কি জানি আছে আমি ঠিক নাম জানিনা ওটার – এসব পরে কেমন জানি অদ্ভুত লাগছিল আমাদের। সবকিছু কেমন জানি অভিনয় অভিনয় মনে হচ্ছিল। K.K. স্যার প্রধান অতিথির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে যাচ্ছে দিনকাল

আমাদের কনভোকেশানের সময় (২৫ অক্টোবর ২০১১ ইনশাল্লাহ) কাছিয়ে আসছে। হাতে সময় মাত্র ১ মাস। আগামী পরশু থেকে আরম্ভ হচ্ছে সেমেস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে থিসিস প্রেজেন্টেশান। এরপর বের হয়ে যেতে হবে আইইউটি থেকে। গত ৪ বছর ধরে আছি এখানে। অন্যরকম একটা মায়ার সৃষ্টি হয়ে গেছে। বের হয়ে যাব ভাবলে খারাপ লাগে। তাছাড়া এখানে যেরকম নিশ্চিন্ত ও শান্তির জীবন কাটালাম সেরকম সুখের জীবন পাওয়াটাও বেশ কঠিন হবে মনে হয়। সামনে সম্ভবত অপেক্ষা করছে কষ্টের জীবন। বাকিটুকু পড়ুন

৮ বছর আগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া স্বপ্ন

গ্রামে আমরা আগে আমার দুই চাচাদের সাথে কম্বাইন্ড বাড়িতে থাকতাম। বাড়িটা মাটির ছিল, অনেক বড়। আমাদের মাত্র একটা ঘর ছিল। অনেক স্মৃতি বিজড়িত ঘরটা। প্রায় ২০০৩ এর দিকে বাড়িটা ভেঙ্গে ফেলা হয়। চাচারাও অল্প কিছু দূরে নিজেদের আলাদা আলাদা বাড়ি বানান। আজ আবার কয়েক বছর পেছনে ফিরে সেই বাড়ির স্বপ্ন দেখলাম কয়েক বছর পেছনে ফিরে। বাকিটুকু পড়ুন

রোজনামচাঃ উদভ্রান্তি

মাঝে মাঝে নিজেকে অনেক উদভ্রান্ত মনে হয়, স্রোতের টানে গা ভাসিয়ে দিই। সম্ভবত এটাকেই গড্ডালিকা প্রবাহ বলে। জোর করে কোন দিকে নিজেকে নিয়ে যাইনা, স্রোতই আমাকে ভাসিয়ে নেই। আমি জানি এটা করা উচিত না। লক্ষ্য ঠিক করে সেদিকে আগানো উচিত। কিন্তু হতাশ হলে মাঝে মাঝে কেমন জানি লাগে। কয়েকদিনের জন্য মনে হয় আমি আর আমি থাকিনা; ঢেউ যেদিকে যায়, আমিও সেদিকেই যাই। বাকিটুকু পড়ুন

আমার যা ছিল তা নিয়ে গেল যা নেই তার ক্ষোভে!

এই মুহূর্তে কেউ যদি প্রশ্ন করে দিনকাল কেমন চলছে, কোন কিছু না ভেবেই উত্তর দেব বেশ সুখে আছি। মাঝে মাঝে ২-১ টা না পাওয়া যে নাই তা না, তবে সেগুলো খুবই নগন্য। বড়সড় চাওয়া বলতে একটা আছে। গ্রাজুয়েশান ঠিকমতো শেষ করে একটা মোটামুটি চাকুরি পেলে সেটাও পূরণ হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আর ছোটখাট না পাওয়াগুলোতো থাকবেই। সেগুলোকে ধর্তব্যের ভেতর নিলে জীবন চালানো যাবেনা। “ইস! আমার সিজিপিএ যদি আরেকটু বেশি হতো! পরীক্ষা খারাপ হয়েছে মন খারাপ। আজ ১ মার্কসের এন্সার করতে পারিনি। আমার যদি একটা আই-প্যাড থাকতো! একটা গাড়ি কেনার খুব শখ আমার, ঢাকায় একটা বাড়ি না থাকলে কি চলে?” এই টাইপ ইচ্ছা, আকাঙ্খা, আক্ষেপগুলো আমাকে এখন আর স্পর্শ করেনা আল্লাহর রহমতে। মন থেকে বলতে পারি, “এই বেশ ভাল আছি!” বাকিটুকু পড়ুন