Casual Leave

কাল সকালে অফিস আছে, উঠতে হবে ভোরে
ঘুমাতে এখন মন চায়না ভাল লাগার ঘোরে
খুব দ্রুত হায় সময় যে যায়, পাইনা অবসর
মন তো বলে থমকে সময় থাকুক নিরন্তর।

মাঝ রাতের এই বৃষ্টিটাকে খুব যে ভাল লাগে
এই বৈশাখে, এভাবেই যদি শ্রাবনী পাশে জাগে
সন্ধ্যা বেলার খুনসুটি আর, রাতের কপট রাগে
সময়টা হায় বেজায় দৌড়ায়; থাকতো যদি বাগে!

খুব সকালে উঠতে হবে, অফিস দিতে দৌড়
মাঝ রাতটাই থাকতো যদি, না হতো আজ ভোর!
আকাশ-কুসুম, কল্পনার ধুম; চাকুরী ব্যাটাই চোর
চাকর আমি; কামলাগিরিই ক্ষমতার আমার দৌড়।

এক নোটিশেই দাওনা বলে কালকে অফিস ছুটি
নাওনা তুলে নিয়ম কানুন, আমরা বাঁধি জুটি।
কামলারাও আজ স্বপ্ন দেখুক , দাওনা ছেড়ে টুঁটি
এই পৃথিবীর সৌন্দর্যটার আমরাও কিছু লুটি।

তোমরা তো ভাই বড় বড় লোক, আমাদের কথাও ভেব
কালকে কি ভাই দেবে ছুটি? পাওনা থেকেই নেব?
casual leave অধিকার নয়, চাইলেই কি আর পাব?
থাক! ছুটির আর নেই দরকার; সকালেই অফিস যাব।

আমার বিয়ে

আইইউটিতে যখন ফোর্থ ইয়ারে পড়ি (২০১০ এর শেষদিকে) তখনই সাহস করে বাসায় বলে ফেললাম “আব্বা,বিয়ে করব”।

আমাদের দেশে ছাত্রাবস্থায় বিয়ে করতে চাওয়াটাকে এক ধরণের অপরাধ হিসেবেই ধরা হয়। আমার বাসায়ও ভয় পেয়ে গেল। আমাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে বললো, “কোনমতে জাস্ট পাসটা কর, তারপরই বিয়ে দিয়ে দিব; চাকুরিও পাবার দরকার নাই। এখন বিয়ে করলে মানুষ কি বলবে? মান-সম্মান থাকবে?”

আমিও বুঝলাম। পাস করে বের হবার পর বেকার ছিলাম প্রায় ৯ মাস। তখন তো বিয়ের কথা মুখে আনা প্রায় অসম্ভবই। এরপর মোটামাটি আয়-রোজগারের একটা ব্যবস্থা হলো (মাসে ১৮ হাজার টাকার মত)। এর কিছুদিন পর বাসায় আবার বললাম বিয়ে করার কথা। আব্বা বললেন – এই টাকায় ফ্যামিলি চালাতে পারবি? ঢাকা শহরে তো বাড়িভাড়াই হবেনা এই টাকায়। আমি কিন্তু ১ টাকাও দিতে পারব না। You have to be at your own! ভেবে দেখ।

সাত-পাঁচ ভেবে পিছিয়ে আসলাম। ঠিকই তো! এই টাকায় চলব কিভাবে? এভাবে আরও কিছুদিন গেল। আবার বললাম। আবার একই উত্তর। আবার পিছালাম। এভাবেই চললো কিছুদিন।

শেষমেস ঠিক করলাম। দরকার হলে রিস্কই নিব। আমার পরিচিত অনেকে তো মাসে ৮ হাজার টাকা স্যালারি পেয়েও ২-৩ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে সুন্দর সংসার চালাচ্ছে, তাঁরা পারলে আমি পারবনা কেন? লাইফ-স্ট্যান্ডার্ড নিচে নামিয়ে আনতে হবে? আনব। দরকার হলে বস্তিতে থাকব।

এরপর বিয়েটা করেই ফেললাম (জুন, ২০১৩)। আমার ২ ফ্রেন্ডের কাছে ২০ হাজার ও ৩০ হাজার করে মোট ৫০ হাজার টাকা ধার করলাম। হবু বউকে আগেই জানিয়ে দিলাম আমি গরিব মানুষ। পুঁজি বলতে আমার এই ৫০ হাজার টাকাই। এর বেশি মোহরানা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, আর পুরোটাই নগদ দিতে চাই। সে রাজি হলো।

কিভাবে জানি আরও ১০ হাজার টাকা ম্যানেজ হলো। বিয়ের দিন কি কি সব খরচে দেখি ২ হাজার টাকা শর্ট! দৌড়ায়ে গেলাম ছোট ভাইয়ের কাছে। বিভিন্ন সময়ে সে আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া ১০০, ২০০ টাকা মিলিয়ে যে ২-৩ হাজার টাকা জমিয়েছিল তা থেকে ২ হাজার টাকা ধার দিল।বিয়ে হয়ে গেল।

বিয়ের পরদিন বউয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে পাওনাদারদের ধার শোধ করলাম ধীরে ধীরে। বিয়ের আগেই একটা বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছিলাম । ভাড়া ৭ হাজার টাকা প্রতি মাসে। বিয়ের ৩-৪ দিন পরই ঢাকায় চলে আসলাম নতুন বাসায়। ফার্নিচার বলতে মেসে থাকার জন্য কেনা ১ হাজার টাকা দামের একটা চৌকি আর ৫০০ টাকা দামের একটা টেবিল আর মেসে মিশুকের ফেলে রেখে যাওয়া একটা প্লাস্টিকের চেয়ার।

সংসার চালানোর জন্য যত খরচ হবে ভেবেছিলাম, দেখলাম বাস্তবে খরচ তার তুলনায় কমই। খরচ বেড়েছে বলতে বাসা ভাড়া ৪ হাজার টাকা (আগে ৩ হাজার লাগত আর তখন ৭ হাজার), খাওয়ার খরচ প্রায় অপরিবর্তিতই আছে (আগে ১০০০ টাকা বুয়া বিল লাগতো সেটা কমে গেছে)। তবে আগে যেমন হাতখুলে খরচ করতাম, তখন সেটা মোটামুটি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে হলো। পার্থক্য এটুকুই। সেই খরচেই সুন্দর চলে যেতে লাগলো।

কয়েকমাস পর বউ বললো একটা ফ্রিজ কেনা দরকার। টাকা জমাতে হবে। কয়েকমাস টাকা জমিয়ে ২০ হাজার টাকার মত হলো। ফ্রিজের দোকানে গেলাম। বউ পছন্দ করলো প্রায় ৩০ হাজার টাকা দামের একটা ফ্রিজ। আমি আনইজি ফিল করা শুরু করলাম। আমার কাছে তো এত টাকা নাই। সব মিলিয়ে বাইশ হাজার টাকা হতে পারে। বউ দেখি হাঁসে। এই কয়দিনে বউও প্রায় ৮ হাজার টাকার মতো জমিয়ে ফেলেছে সংসারের খরচ সেভ করে।

এখনো মাঝে মাঝে অবাক লাগে। আগে টাকার ভয়ে বিয়ে করতে পারিনি আমি। বিয়ের আগে প্রায় এক-দেড় বছর যে আয় ছিল, বিয়ের প্রায় বছরখানেক পর পর্যন্তও আয় ছিল একই। বিয়ের আগের প্রায় এক বছরে সেভিংস ছিল শূন্য টাকা। বিয়ের পরের এক বছরেও সেভিংস শূন্য, কিন্তু ২ জনের একটা সংসার চালিয়েও ফ্রিজসহ আরও অনেক কিছু কেনা হয়ে গেছে!

বিয়ে করলে আসলেই আয়ে বরকত আসে। রিজিকের মালিক আল্লাহ- এটা নতুন করে অনুভব করেছিলাম তখন। যারা বিয়ে করবেন মনস্থির করেছেন, পাত্রীও ঠিক করা আছে কিন্তু টাকার ভয়ে বিয়ে করতে পারছেন না, সাহস করে বিয়েটা করেই ফেলুন। ইনশাল্লাহ, আয়ে বরকত আসবে। রিজিকের মালিক তো আল্লাহই। অপচয় না করলে আর অলস না হলে তো অভাব হবার কথা না।

ফুটনোটঃ বিয়ের জন্য যে দুই ফ্রেন্ডের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলাম, ধার শোধ করে তাঁদের বিয়ের সময়ও সেই একই পরিমান টাকা ধার দিতে পারার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। মাঝে মাঝে এই ৫০ হাজার টাকাকে খুব বরকতময় মনে হয়! কি সুন্দর এই হাত থেকে ঐ হাতে যাবার অছিলায় ৩ জনের বিয়ে সুন্দরভাবে হয়ে গেল!

* এর মানে কিন্তু এই না যে হুটহাট বিয়ে করে ফেলা উচিত। বিয়ে করার আগে অবশ্যই বউয়ের ভরণ-পোষনের দায়িত্ব নিতে পারতে হবে (গোশত ভাত খাওয়াতে না পারলেও অন্তত নুনভাত খাওয়াতে পারতে হবে)। বাবা-মা এর জন্য যেন বোঝা না হয়ে যান সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

** পরিবার/অভিভাবকের অনুমতি/সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা উচিত নয়। দরকার হলে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে হলেও পরিবারকে রাজি করিয়ে তারপরই বিয়ে করবেন। আমাদের অভিভাবকরা তো আর পাথর নন, লেগে থাকলে উনারা রাজি একসময় হবেনই। নিয়মিত ঘষতে থাকলে পাথরও ক্ষয় হয়ে যায়, আর এটা তো মানুষের মন!

আছি আমি ফেইসবুকে !

দুঃখিত! প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অনিয়মিত হয়ে যাবার জন্য। আলসেমীর কারণে ব্লগটা অনেকদিন থেকেই আপডেট করা হচ্ছেনা। স্ট্যাট থেকে জানতে পারছি অনেকেই এসে ঘুরে যাচ্ছেন। তাদের হতাশ করার জন্য আমি দুঃখিত। ফেসবুক পেজটায় মোটামুটি রেগুলার আমি। সেখানে লেটেস্ট আপডেট পাবেন ইনশাল্লাহ।

শিক্ষামূলক গল্প-৩ : মন ভালো করে দেয়া একটি গল্প

অনেক কাল আগের কথা। একজন দরিদ্র লোক একটি দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় পানি বহনের কাজ করত। তার দুইটি পাত্র ছিল, একটি লাঠির দুই প্রান্তে পাত্র দুটি ঝুলিয়ে কাঁধে নিয়ে সে পানি বহন করত। রোজ অনেকটা পথ তাকে হেঁটে পাড়ি দিতে হত।

দুটি পাত্রের একটি কিছুটা ভাঙ্গা, আরেকটি ত্রুটিহীন। পানি নিয়ে যেতে যেতে ভাঙ্গা পাত্রটি প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে যেত। অপরদিকে ত্রুটিহীন পাত্রটি প্রতিদিন সুন্দরভাবে কানায় কানায় ভরে পানি পৌছে দিত। এভাবে দরিদ্র লোকটি রোজ তার মনিবের বাড়িতে এক পাত্র আর অর্ধেক অর্থাৎ দেড় পাত্র পানি পৌছে দিত।স্বাভাবিকভাবেই, ভালো পাত্রটি তার এ কাজের জন্য খুব গর্বিত ও আনন্দিত থাকত। অপরদিকে ভাঙ্গা পাত্রটির মন খুব খারাপ থাকত। সে খুব লজ্জিত আর বিমর্ষ থাকত। কেননা তাকে যে কাজের জন্য বানানো হয়েছিল সে তার সেই কাজ পুরোপুরিভাবে করতে পারছিল না। বাকিটুকু পড়ুন

আমার যা ছিল তা নিয়ে গেল যা নেই তার ক্ষোভে!

[এই পোস্টটা পুরাতন দুইটা পোস্টের সমন্বিত ও সামান্য পরিবর্তিত রূপ। আমাদের নাচোল থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন “প্রস্ফূরন” এর জন্য পাঠালাম। ভাবলাম এখানেও আবার তুলে রাখি।]

এই মুহূর্তে কেউ যদি প্রশ্ন করে দিনকাল কেমন চলছে, কোন কিছু না ভেবেই উত্তর দেব বেশ সুখে আছি। মাঝে মাঝে ২-১ টা না পাওয়া যে নাই তা নয়,তবে সেগুলো খুবই নগণ্য। ছোটখাট না পাওয়াগুলোতো থাকবেই। সেগুলোকে ধর্তব্যের ভেতরে নিলে জীবন চালানো যাবেনা। “ইস! আমার সিজিপিএ যদি আরেকটু বেশি হতো! পরীক্ষা খারাপ হয়েছে মন খারাপ। আজ ১ মার্কসের এন্সার করতে পারিনি। আমার যদি একটা আইপ্যাড থাকতো! একটা গাড়ি কেনার খুব শখ আমার, ঢাকায় একটা বাড়ি না থাকলে কি চলে?” আল্লাহর রহমতে এই টাইপ ইচ্ছা, আকাঙ্খা, আক্ষেপগুলো আমাকে এখন আর স্পর্শ করেনা। মন থেকে বলতে পারি, “এই বেশ ভাল আছি!”

কার কাছে যেন শুনেছিলাম পৃথিবীতে আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত হচ্ছে “শারীরিক সুস্থ্যতা”। আমারও তাই মনে হয়। আল্লাহ কত কিছু দিয়েছে আমাকে! চোখে চশমা পর্যন্ত ওঠাতে হয়নি আল্লাহর রহমতে। অনেকেরই শুনি মাইগ্রেনের ব্যাথা ইত্যাদি ইত্যাদি। আল্লাহর রহমতে এরকম কিছুতে এখনও ভুগতে হয়নি আমাকে। এইরকম অঢেল নিয়ামত থাকার পরও নিজের ছোটখাট অপ্রাপ্তিতে দুঃখিত হই কিভাবে! হে আল্লাহ তোমাকে মন থেকে ধন্যবাদ শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ। বাকিটুকু পড়ুন

সুখী হয়েও মানুষ অসুখী

আসলে আমরা সবাই সুখী, কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না। দিন-রাত সব সময় ঘুরি সুখের পেছনে; আমরা যে সুখের ভেতরেই আছি সেটা খেয়াল করি না।

যখন ভার্সিটিতে থাকি তখন মনে হয় কবে বাড়ি যাব, কবে বাড়ি যাব! মন খালি ছটফট করতে থাকে। আবার বাড়ি গেলেও মন টিকে না। ভার্সিটিতে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে উঠি।
বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১১ এর ফিক্সচার

এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে আমাদের বাংলাদেশে। আমি অনেক উত্তেজিত। একে তো নিজের দেশে খেলা হবে, তার উপর বাংলাদেশ ফর্মে আছে। উত্তেজনা বেশি থাকাই স্বভাবিক। সাকিব, তামিম, মাশরাফিদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবার। আশা করি তারা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে। এবারের বিশ্বকাপের ফিক্সচারটা নিচে তুলে দিচ্ছি। প্রয়োজন মনে হলে পেজটা বুকমার্ক করে রাখতে পারেন অথবা ইমেজ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। বাকিটুকু পড়ুন