শিক্ষামূলক গল্প-৩ : মন ভালো করে দেয়া একটি গল্প

অনেক কাল আগের কথা। একজন দরিদ্র লোক একটি দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় পানি বহনের কাজ করত। তার দুইটি পাত্র ছিল, একটি লাঠির দুই প্রান্তে পাত্র দুটি ঝুলিয়ে কাঁধে নিয়ে সে পানি বহন করত। রোজ অনেকটা পথ তাকে হেঁটে পাড়ি দিতে হত।

দুটি পাত্রের একটি কিছুটা ভাঙ্গা, আরেকটি ত্রুটিহীন। পানি নিয়ে যেতে যেতে ভাঙ্গা পাত্রটি প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে যেত। অপরদিকে ত্রুটিহীন পাত্রটি প্রতিদিন সুন্দরভাবে কানায় কানায় ভরে পানি পৌছে দিত। এভাবে দরিদ্র লোকটি রোজ তার মনিবের বাড়িতে এক পাত্র আর অর্ধেক অর্থাৎ দেড় পাত্র পানি পৌছে দিত।স্বাভাবিকভাবেই, ভালো পাত্রটি তার এ কাজের জন্য খুব গর্বিত ও আনন্দিত থাকত। অপরদিকে ভাঙ্গা পাত্রটির মন খুব খারাপ থাকত। সে খুব লজ্জিত আর বিমর্ষ থাকত। কেননা তাকে যে কাজের জন্য বানানো হয়েছিল সে তার সেই কাজ পুরোপুরিভাবে করতে পারছিল না।

ত্রুটিপুর্ণ পাত্রটি এভাবে অনেকদিন পানি বহনের কাজ করার পর একদিন আর সইতে না পেরে লোকটির কাছে তার ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চাইলো। সে বলে উঠলো, “আমি আমাকে নিয়ে লজ্জিত ও হতাশ, আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই”। দরিদ্র লোকটি জানতে চাইলো “কেন তুমি লজ্জা পাচ্ছো” ?

“তুমি কত কষ্ট করে রোজ আমাকে বয়ে নিয়ে যাও, নদী থেকে আমাকে পানি দিয়ে পূর্ণ করে নাও, অথচ আমি তোমার মনিবের কাছে যেতে যেতে অর্ধেক পানি ফেলে দিই, আমার এক পাশে ফাটল, ঐ ফাটল দিয়ে অর্ধেক পানি ঝরে পরে যায়”।

লোকটি তার পাত্রটির প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করলো, বলল, “মন খারাপ করো না। হয়তো এর মাঝেও ভাল কিছু আছে যা তুমি এখন বুঝতে পারছো না”।

ভাঙ্গা পাত্রটি তবু তার অপরাধবোধ আর লজ্জা থেকে মুক্তি পেল না যদিও স্বান্তনার বাণী শুনে কিছুটা শান্তি পেল। মন খারাপ করে সে প্রতিদিনের মতো আজকেও লোকটির কাঁধে চড়ে পানি বয়ে নিয়ে যেতে লাগলো, আর পথ চলতে চলতে ফাটল দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরতে লাগলো, কান্নার সাথে মিলে মিশে এক হয়ে ঝরতে লাগলো। পাত্রটি পথে যেতে যেতে আশেপাশে দেখতে লাগলো, সবাই কত ভালো আছে সুখে আছে, কি চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল সকাল, পাহাড়ি পথের পাশে নাম না জানা কত শত ফুল ফুটে রয়েছে। সকালের রোদে, মন ভোলানো কোমল হাওয়ায় তারা হেলছে, দুলছে, খেলছে। “অথচ আমার মাঝে এত কষ্ট কেন” । পাত্রটি ভাবতে ভাবতে রোজকার মত আজও ধনী লোকটির বাড়িতে অর্ধেক পানি পৌছে দিল।

ফিরতি পথে আবারও তার ব্যর্থতার জন্য দরিদ্র লোকটির কাছে সে ক্ষমা চাইলো। তার মন খারাপ দেখে লোকটি একটু থেমে পথের পাশে ফুটে থাকা কিছু পাহাড়ি ফুল ছিঁড়ে এনে দিল তাকে। “দুঃখ করো না। আমি আগে থেকেই তোমার এ ত্রুটির কথা জানতাম, তাই যাবার বেলা প্রতিদিন তোমাকে আমার কাঁধের একই দিকে বয়ে নিয়ে যেতাম। আর যেতে যেতে তুমি তোমার ফাটল দিয়ে পানি ঝরিয়ে ঝরিয়ে যেতে, কখনো কাঁদতেও। এভাবে পথের এক পাশে তুমি প্রতিদিন পানি দিতে, দেখো পথের ঐ দিকে চেয়ে ! কত শত সুন্দর ফুল ফুটে রয়েছে ! তুমিই তো তাদেরকে পানি দিয়েছো,

অথচ পথের অপর পাশে চেয়ে দেখো! ধূলো পাথর ছাড়া কিচ্ছু নেই, কোনো ফুলও ফোটেনি”। (translated )

Moral: “regret over misdeeds erases them, and pride over good deeds ruins them ”~ Hazrat Ali (R)

অনুবাদ কৃতজ্ঞতাঃ সিফাত

[“শিক্ষামূলক গল্প” সিরিজের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ২০১১ সালের জানুয়ারীতে প্রকাশিত এই লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা হলো]

___________________________________________________________________________
গল্পটি আপনার ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু ।
____________________________________________________________________________

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাঃ

  • শিক্ষামূলক গল্প-২ : মানুষ তাই পায়, যা সে করে
  • শিক্ষামূলক গল্প-১ : অদ্ভুত সেই হাতিটি
  • 28 responses to “শিক্ষামূলক গল্প-৩ : মন ভালো করে দেয়া একটি গল্প

    1. দারুণ।

      আপনাকে খুঁজছিলাম। হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করার পর, সব কিছু মুছে গেছে। লিংক ও।
      গুগলে সার্চ দিয়ে এই পেইজ টা পেলাম। আপনার সাইটে না আগে আরও কত ক্যাটেগরী ছিল?!! ব্লগারের টেমপ্লেট আর কী কী যেন! ওগুলা কোথায় ভাই??

      আর, সময় এসে পড়েছে। ব্লগার থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে ঢুকব এবার। ব্লগার থেকে সাইট ইম্পোর্ট করতে চাই। seo এর ত বারোটা বাজবে এতে। নাকি? আর, আমি ব্লগার থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে আনলে, গুগলকে কী করে বুঝাবো যে, নতুন ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটা আগের ব্লগসাইটের কপি-পেস্ট না। আমি একই মালিক। এটার কোন উপায় আছে?

      এসব নিয়ে আপনার কোন পোস্ট আছে? আমি যতদূর জানি, আপনিও ব্লগার থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে ঢুকেছেন।
      আরেকটা জিনিস, হয়ত খুবই বেসিক প্রশ্ন, তাও যেহেতু নতুন তাই জানিনা। আপনি ব্লগারের ব্লগ যে ইমপোর্ট করব, সেটা আমার সাবডোমেইনে করব। এখন সাবডোমেইনের জন্যেও কী ওয়ার্ডপ্রেসের আলাদা ড্যাশবোর্ড নাকি মেইন ডোমেইনের ড্যাশবোর্ড থেকেই সাবডোমেইনে সাইট ম্যানেজ করা যায়?

      ভাল থাকবেন।

    মন্তব্য করুন

    Fill in your details below or click an icon to log in:

    WordPress.com Logo

    You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

    Twitter picture

    You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

    Facebook photo

    You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

    Google+ photo

    You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

    Connecting to %s