যেভাবে যাচ্ছে দিনকাল

আমাদের কনভোকেশানের সময় (২৫ অক্টোবর ২০১১ ইনশাল্লাহ) কাছিয়ে আসছে। হাতে সময় মাত্র ১ মাস। আগামী পরশু থেকে আরম্ভ হচ্ছে সেমেস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে থিসিস প্রেজেন্টেশান। এরপর বের হয়ে যেতে হবে আইইউটি থেকে। গত ৪ বছর ধরে আছি এখানে। অন্যরকম একটা মায়ার সৃষ্টি হয়ে গেছে। বের হয়ে যাব ভাবলে খারাপ লাগে। তাছাড়া এখানে যেরকম নিশ্চিন্ত ও শান্তির জীবন কাটালাম সেরকম সুখের জীবন পাওয়াটাও বেশ কঠিন হবে মনে হয়। সামনে সম্ভবত অপেক্ষা করছে কষ্টের জীবন।

নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ রাজশাহীর (আমার কলেজ) শামসুদ্দিন হোস্টেল থেকে যখন বের হলাম তখন খারাপ লাগেনি খুব একটা। সেখানেও ছিলাম বছর দুয়েক। অনেক স্মৃতিবিজড়িত ছিল কলেজ, হোস্টেল। এখনও মাঝে মাঝে মিস করি আমার রুমের পাশের ভাঙ্গা জানালাটা, জানালার পাশের আতর আলী মীরের পুকুর, পুকুরপাড়ের শিশু ও আমগাছগুলো। শিশুগাছগুলো ছিল সাঁপদের অভয়ারণ্য। অনেকদিন রাতে শুয়ে শুয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে গাছে সাপদের চলাফেরা দেখেছি, ভয় লাগেনি কখনও। মাঝে মাঝে সেগুলো মিস করি। আমার জানালার গ্রিলটা কাটা ছিল, সেজন্যই ভাঙ্গা জানালা বলছি। সেটা আমার জন্য বেশ ভালোই ছিল। রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখা যেত। কলেজ হোস্টেলের সেটাই মিস করি সবচেয়ে বেশি, এরপর ফ্রেণ্ডদের, রুমমেটদের।

আইইউটিতেও শেষদিন কাছিয়ে আসছে বলে শেষের কিছু সময়টা আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। প্রতিবছরই নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সে উপলক্ষ্যে। এগুলোর ভেতর ফেয়ারওয়েল, গরু পার্টি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। গরু পার্টি জিনিসটা একটু নতুন মনে হয়ে পারে অনেকের কাছে। ফোর্থ ইয়ারের পক্ষ থেকে আইইউটির সবাইকে গরু খাওয়ানো হয় এইদিনে। বেশ মজার হয় অনুষ্ঠানটা। এই পোস্টের প্রথমে যে ছবিটা দেওয়া আছে তা গরু পার্টির।

এই অনুষ্ঠানগুলোর ভেতর এই বছর আরেকটা নতুন সংযোজন হচ্ছে রাজশাহীর আইইউটিয়ানদের পক্ষ থেকে আমাদের আরেকটা ফেয়ারওয়েল দেওয়া। এটা আমার জানামতে এবারই প্রথম দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী থেকে আমরা যতজন আইইউটিয়ান আছি তারা প্রায় সবাই এ উপলক্ষ্যে গিয়েছিলাম ক্যাপ্টেনস এ। মজাদার খাওয়া-দাওয়াসহ বেশ আনন্দ হয়েছে। নীচে একটা ছবি দিলাম।

আমাদের পুরো ব্যাচের জন্য ফেয়ারওয়েল টিশার্ট বানানো হয়েছে। সেখানে একেকজনকে ইচ্ছামত ট্যাগ করা হয়েছিল। মনিটর, সাইকো, রাঞ্চো থেকে আরম্ভ করে অনেক কিছুই। আমাকেও ট্যাগ করতে চেয়েছিল, আমি আপত্তি নাই বলেছিলামও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন জানি রনিই রেখেছিল আমার ট্যাগে। যাহোক, টি শার্ট এর একটা ছবি ছিল আমার কাছে। সেটাই তুলে দিইঃ

10 responses to “যেভাবে যাচ্ছে দিনকাল

    • এটা একটা স্পেশাল পার্টির মতো। ফোর্থ ইয়ারের স্টুন্ডেন্টরা বাকি আইইউটিয়ানদের জন্য পার্টি দেয়। সেই পার্টির প্রধান আকর্ষন গরু খাওয়া। আমাদের ২ টা হল- নর্থ হল, সাউথ হল। ২ হলের মাঝে একটা সুন্দর জায়গা আছে। সেখানে সবাই একত্রিত হয়ে অনেক মজা করা হয়। আপনার জন্য আরও কিছু ছবি দিচ্ছি। একটু অপেক্ষা করুন।

  1. ১।
    বের হয়ে যাচ্ছ! তোমরা তো জিরো-সেভেন ব্যাচ তাইনা? বের হওয়া উপলক্ষে ছোট্ট একটা বাণী দিই – “ওয়েলকাম টু দ্যা হেল!”😛

    ২।
    ঐতিহাসিক একটা পয়েন্ট – গরু পার্টি’র প্রচলন কিন্তু আমাদের ব্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল! আমরা অবশ্য জুনিয়রদের বি-শা-ল একটা কেক খাইয়েছিলাম। আর শেষ ক্লাস করে রাতের বেলা নিজেরা করেছিলাম বনফায়ার!

    ৩।
    যতটুকু পার শেষ ক’টা দিনে মনের সাধ মিটিয়ে নাও। আর কখনো এই দিনগুলো ফেরত পাবেনা।😦

    ৪।
    আইইউটির শেষের দিকের দিনগুলো ভালোই উদযাপন করেছিলাম। মন খারাপ হয়নি এতটুকু (কেবল ফেয়ারওয়েলের রাতে জুনিয়রদের করা মিউজিক ভিডিও দেখে নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছিল)। কিন্তু যখন কনভোকেশনের পরদিন রুম বুঝিয়ে দিয়ে গেট দিয়ে বের হয়ে আসলাম, পিছে তাকিয়ে চিরচেনা আইইউটিকে আরেকবার দেখলাম, যখন বুঝলাম যে আর হয়তো ফেরা হবেনা এই স্বর্গপুরীতে – তখন বুকের গভীরে চিনচিনে একটা ব্যাথা পেয়েছিলাম। ব্যাথাটা আজো আছে।

    • এখনই মন খারাপ করোনা… হাতে তো আরো সময় আছে… যতটা পার উপভোগ করে নাও… মন খারাপ করার জন্য সামনে অনেক সময় পড়ে আছে! আর সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, সিনিয়ররা যে কাজটা এতদিন ধরে করে আসছে সেটাতে এখন তোমরাও তাতে শামিল হলে – বাকী জীবনের জন্য আইইউটির মর্যাদা ধরে রাখার কাজ! বেশ দায়িত্বপূর্ণ একটা কাজ!

      তাই “নরকে” প্রবেশের আগে প্রতিটা ক্ষণ উপভোগ করে নাও।🙂

  2. এইসব লেখা দেখতে চাইনা,দেখলেই কষ্টটা নতুন করে বাড়ে।ফেয়ারওয়েলের দিন ছিল থিসিস প্রেজেন্টেশন,সকাল থেকে কিছু বুঝি নাই।কিন্তু যখন অডিটোরিয়ামের মধ্যে ঢুকলাম,তখন থেকেই মনে হল সবাই আমাকেই বিদায় জানাচ্ছে।বিদায় নিতে হবে জানি,কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি সময়টা চলে আসবে,কখনো বুঝি নাই।২৫ তারিখটাও দেখতে দেখতে চলে আসবে,তখন বুঝব maq ভাইয়ের কথাটা কত সত্য।

  3. গরু পার্টি নিশ্চই চমৎকার একটি পার্টি। না হলে এত আয়োজন কেন।

    শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পে আদোও কি শিক্ষার উন্নয়ন হচ্ছে!!!!
    জানতে হলে পড়ুন মতামত দিন। ধন্যবাদ।
    http://my-complain.com

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s