রোজনামচা-২: বুকলেটের খপ্পরে লেট লতিফ রনি

অনেকদিন ব্লগে লেখা হয়না। এই শখটাও ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। এখন খালি নিজের প্রয়োজনে টুকটাক ডায়েরী লেখি। যাহোক, কথা না বাড়িয়ে আজকের ডায়েরীটা লিখে ফেলি।

বেশ ব্যস্ত সময় গেল গত কয়েকদিনে। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো গতকাল। আজকে প্রজেক্টের প্রেজেন্টেশন হলো। ৪ দিন পরেই নতুন এবং শেষ সেমিস্টার শুরু হবে। সেই সেমিস্টারে সফলভাবে পাশ করতে পারলেই আমি ইঞ্জিনিয়ার । আমার আইইউটি লাইফেরও যবনিকাপাত ঘটবে। ব্যাপারটা অম্লমধুর। যখন ভাবি, আর মাত্র একটা সেমিস্টার পরই হয়তো নিজের পায়ে দাঁড়াব, বিয়ে শাদী করে সংসারী হবো, নিজের একটা আলাদা জগত থাকবে- ভাবতে ভালোই লাগে। আবার যখন ভাবি আইইউটিতে আর থাকবো না, পরাধীন হয়ে যাব, বিদ্যুত,পানি ইত্যাদির সমস্যায় পড়তে হবে তখন খুব খারাপ লাগে। যাহোক, যেতে যখন হবেই তখন সেটা নিয়ে চিন্তা না করে যেটুকু সময় আছে তা থেকে স্মৃতির ঝুলিটা সমৃদ্ধ করে নিই।

গত কয়েকদিনে বেশ কিছু মজার ঘটনা ঘটেছে। ইকোনোমিক্স পরীক্ষার দিন খুব বেশি ডিপ্রেসড ছিলাম। পরীক্ষার হলে পৌঁছেছি প্রায় ১০ মিনিট লেটে। এমনিতেই নিজের ভেতর এক ধরনের ভয় কাজ করছে। হলের ভেতর ঢুকেছি তখনই এক টিচার জিজ্ঞেস করেন, “ফোর্থ ইয়ার ইলেক্ট্রিক্যাল?”
আমি বলি, “ইয়েস”।
– “গো দেয়ার এন্ড টেক বুক লেট” ।

আমি তো মোটামুটি ভয়ই পেয়েছি উনি বলেন কি! কত পরিক্ষায় আধা ঘন্টাও দেরি করে গেছি, কিছু হয়নি আর আজ ১০ মিনিট লেট করেছি বলে উনি কি করতে বলেন! ভাবলাম বোধয় কোথাও সিগনেচার করতে হবে। ঐদিকে তাকাই। কৈ! সিগনেচার করার কিছু তো দেখিনা!

উনি আবার আঙ্গুল দিয়ে দরজার দিকে দেখান । আরও বেশি ভয় পাই। ঘটনা কি! আমার পাশেই ছিলেন রকিব ভাই। রকিব ভাই আমাদের টিচার। আমাদের আগের ব্যাচের স্টুডেন্ট ছিলেন উনি। উনিও নিউ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহীর আর আইইউটির। গতবছর টিচার হয়েছেন। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে রকিব ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার অবস্থা ততক্ষনে তিনি কিছুটা হলেও অনুমান করতে পেরেছেন মনে হয়। উনি নিজে যেয়ে আমাকে একটা “Booklet” এনে দেন। ইকোনমিক্সের বিভিন্ন সূত্র আর নানা রকম চার্ট থাকে একটা বইয়ে। পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে একটা করে “Booklet” ও দেওয়া হয় সবাইকে। সেখানকার বিভিন্ন ভ্যালু দেখে অংক করতে হয়।

ততক্ষনে নিজেকে বলদ বলদ মনে হচ্ছে। স্যার আমাকে “বুকলেট” এর কথা বলছিলেন আর আমি কিনা দেরি করেছি তাই ভয়ে অস্থির! আসলে মনের ভেতর ভয় থাকলে হয়তো এরকমই হয়। রকিব ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৪ দিন পর আমাদের নতুন সেমিস্টার শুরু হবে। আজব এক জায়গার স্টুডেন্ট আমরা। এক সেমিস্টার শেষ হতে না হতেই ৪ দিনের ব্যবধানে নতুন সেমিস্টার শুরু। আজকের রাতে নানাবাড়ির বাস ধরবো। কাল সকালে সেখানে পৌছে যাব ইনশাল্লাহ। আম্মু আর সাগর আছে সেখানে। ১ দিন ওখানে থেকে সবাই মিলে বাড়ি যাব। এখন আম্মুর ছুটি চলছে। একসাথে অনেকদিন ছুটি। দুঃখের বিষয় আমার ছুটি নাই। এরকম দৌড়াদৌড়ির পর এসে নতুন সেমিস্টার শুরু করতে হবে। এরপর অক্টোবরের ২৫ তারিখে খেল খতম। যে কয়দিন আছি স্মৃতিটা একটু সমৃদ্ধ করে নিই। এরপর ভাল থাকুক আইইউটি, ভাল থাকুক আমার স্মৃতিগুলো।

রনি
১৬ ই মে, ২০১১
সন্ধ্যা ৭.৪০

10 responses to “রোজনামচা-২: বুকলেটের খপ্পরে লেট লতিফ রনি

  1. খুব খুব খুব ভাল লাগলো , এক কথাই অসাধারন লাগলো ,( রনি ভাই )।। শুভ হোক আপনার আগামী দিনগুলো …এই কামনায় … {যায় দিন ভাল আসে দিন খারাপ….} এই পোস্ট টা আমি দেখি নি ওটা মনে হয় আরও ভাল লিখে ছিলেন … plz ওই পোস্ট টা আমাকে মেইল করবেন… আমার মেইল josephcuc@gmail.com. শুভ হোক আপনার versity শেষ দিন গুলো …

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s