আমার সাধের কোয়ার্টার ফাইনাল :(

ক্রিকেট খেলায় আমি খুব আশাবাদী মানুষ, একেবারে শেষ পর্যন্ত আশা হারাইনা। ইংল্যান্ডের সাথে যেদিন ২ উইকেটে ৫৮ রান লাগতো সেদিনই জীবনে প্রথমবারের মতো আশা ছেড়ে উঠে এসেছিলাম। সেদিন জিতে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছিল আমার আশা হারানো উচিত হয়নি। আবার ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে প্রায় অসম্ভব এক ম্যাচ ইংল্যান্ড জিতে নিয়েছিল। এই দুটা ম্যাচ থেকে শিখেছি যে কোন পরিস্থিতিতেই জেতা সম্ভব।

ক্রিকেটের সাথে কেন জানি অনেক বেশি আবেগ জড়িয়ে গেছিল হঠাৎ । যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকতো, মনের ভেতর চাপা এক উত্তেজনা থাকতো সকাল থেকেই। কোন কাজেই ঠিকমতো মন বসতোনা, মনে হতো কখন খেলা শুরু হবে… কখন খেলা শুরু হবে… আর দিনশেষে বাংলাদেশ জিতে গেলে তো কথাই নাই। টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু থেকে শুরু করে সিডনি মর্ণিং হেরাল্ড পর্যন্ত বিদেশী প্রায় সবগুলো পত্রিকা আর ব্লগ পড়তাম বাংলাদেশের জয় নিয়ে কে কি লিখলো জানার জন্য। ক্রিকইনফোর ২৫০-৩০০ কমেন্টের সবগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তাম । ক্রিকেট বিষয়ক ফেসবুক পেজগুলোর পোস্ট, কমেন্ট; টুইটারের #cwc2011 থেকে #cricket পর্যন্ত ট্রেন্ডিং টপিকগুলো কয়েক সেকেন্ড পরপর রিফ্রেশ করতে থাকতাম।

ইদানিং খালি মন খারাপের মৌসুম চলছে। ওয়েস্ট-ইন্ডিজ খেলায় কত আশা করলাম ওয়েস্ট-ইন্ডিজ জিতে যাবে। মনে হলো সবাই পরামর্শ করে বাংলাদেশকেই হারিয়ে দিল। অনেকের মতো আমিও আবার নতুন স্বপ্ন দেখা আরম্ভ করলাম। “অন্যের দয়ার দরকার নাই। নিজের যোগ্যতাতেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাব।”

আজ যখন বোলাররা শেষের দিকে অনেক বেশি রান দিল, মনে হলো তামিমের একটা সেঞ্চুরী হলেই তো যথেষ্ট, নাফিস-কায়েস তো আছেই। ইন্ডিয়ার সাথে যেভাবে ব্যাটিং করেছি সেভাবে করলেই তো হবে। তামিম আউট হলো, ভাবলাম জুনায়েদ হয়তো আজকে একটা কিছু করবে। টেস্টে তার প্রায় ১৫০ রানের ইনিংসটার কথা মনে পড়লো। সেরকম একটা ইনিংস খেললেই তো হবে। এরপর নাফিস-মুশফিক ক্রিজে। মনে মনে বললাম, মুশফিক অনেকদিন ভাল খেলেনি হয়তো আজ ৮০-৯০ রানের একটা ইনিংস পাব। শেষের দিকে প্রত্যাশা ছিল সাকিব রিয়াদ ম্যাচ বের করে আনবে। মুহূর্তেই সব প্রত্যাশা শেষ হয়ে গেল।

সান্ত্বনা দিই, বেটার টিমই কোয়ার্টার ফাইনালে গেছে। হয়তো পরবর্তীতে আমরা ভাল করবো। আবেগ বাঁধ মানেনা। আজ ঠিকমতো বোলিং হয়নি, ফিল্ডিং হয়নি, ব্যাটিংটাও ভাল হয়নি। কি আর করার আছে!

আমি সবসময় দোয়া করি, “আল্লাহ আমার জন্য যেটা ভাল, আমাকে তুমি সেটাই দাও”। স্পেসিফিক কোন কিছু সাধারণত না চাওয়ার চেষ্টা করি। হয়তোবা এই হারে আমাদের জন্য ভাল কিছু আছে। এই ভুলগুলো হয়তো শুধরিয়ে পরবর্তীতে আমরা খুব ভাল একটা টিম পাব, আল্লাহ একদিন আমাদের প্রত্যশিত কিছু দিয়ে দেবেন। “ আমাদের জন্য যেটা ভাল, আল্লাহ তুমি আমাদের সেটাই দিও”। আমিন।

10 responses to “আমার সাধের কোয়ার্টার ফাইনাল :(

  1. ক্রিকেট নিয়ে দারুণ একটা লেখা পড়লাম। আমি সাধারণত মন্তব্য করি খুব কম। কিন্তু এত্তো সুন্দর একটা লেখা পড়ে মন্তব্য না করে পারলাম না।

    আর থিমের ব্যাপারে বলতে চাই “এক্সিলেন্ট হয়েছে” একই থিম দেখতে বিরক্ত লাগে। বৈচিত্রতা আছে বলেই এই ব্লগ আন-সাবস্ক্রাইব করিনি।

    • লজ্জা লাগছে রাসেল ভাই।
      কেমন আছেন? অনেকদিন পর দেখলাম। আপনি এখন আছেন কোন ব্লগে? আপনি এখন কোথায় লিখেন সেটা খুঁজছিলাম কিছুদিন আগে। পাইনি।😦
      কোথায় লিখছেন একটু জানাবেন। আপনার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করতে চাই।

  2. আশা নিরাশা করে জাতিকে লজ্জ্বায় ফেলল ………..তবুত্ত ভাবি আমরা করব জয়। যদি বাংলাদেশ ২০০ রান কত তাহলে এত লজ্জ্বা আর কষ্ট পেতাম না…..

    • হুম। আপনি ইন্ডিয়ান বুঝলাম কিন্তু এর জন্য বাংলাদেশকে ঘৃণা করতে হবে কেন? যাহোক, ভাল থাকবেন । শুভ কামনা রইলো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s